বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, বিশ্বমিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৪ জুলাই:
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের পর তিনি বলেন, "আমি ভীষণ অসুস্থ, তাই পদত্যাগ করেছি।"
বঙ্গভবন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের একাধিক সূত্র রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবে।
রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই স্বাস্থ্যগত কারণে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। স্পিকার বিদেশে থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়। স্পিকার শুক্রবার ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরার পরই তিনি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।
পদত্যাগের পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, "আমি ভীষণ অসুস্থ, তাই পদত্যাগ করেছি।" এরপর থেকেই তিনি আর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে নেই।

এদিকে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্পিকার বলেন, ‘সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছি।’
গত কয়েক মাস ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরকালে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য সামনে আসার পর তার পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত ছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, তার পদত্যাগের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
বিশ্বমিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। কাতারভিত্তিক আল জাজিরা জানিয়েছে, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে বিরোধীদের চাপের মুখে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন। রয়টার্স স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবর প্রকাশ করেছে। বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে জল্পনার মধ্যেই তার পদত্যাগ ঘটেছে। নিউইয়র্ক টাইমস, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, নিউজ-১৮ এবং মালয়েশিয়ার দ্য স্টার-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। অধিকাংশ প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যগত কারণের পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে ওঠা আলোচনার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই পদত্যাগের মাধ্যমে তার দায়িত্বের ইতি ঘটল। এখন সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ততদিন স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।