১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম বন্ধের পথে যুক্তরাজ্য

১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম বন্ধের পথে যুক্তরাজ্য

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ১৬ জুন:

শিশু ও কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে কেয়ার স্টারমারের সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাটসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, শুধু সামাজিক মাধ্যম নয়, শিশুদের জন্য লাইভস্ট্রিমিং সুবিধা সীমিত করা, গেমিং প্ল্যাটফর্মে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোরদের অনলাইন ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি এবং ক্ষতিকর কনটেন্টে প্রবেশের ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ কারণে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বেচ্ছা উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি আইনি কাঠামোর মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেছেন, ডিজিটাল যুগে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তার ভাষায়, শিশুদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয় এমন অনলাইন পরিবেশ আর চলতে দেওয়া হবে না।

সরকার পরিচালিত এক পরামর্শমূলক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী ১৬ বছরের নিচে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিশেষ করে অভিভাবকদের মধ্যে এ উদ্যোগের প্রতি ব্যাপক সমর্থন দেখা গেছে।

তবে প্রস্তাবিত এই নীতির সমালোচনাও রয়েছে। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন মনে করে, সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে অনেক শিশু বিকল্প ও আরও অনিরাপদ প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকতে পারে। তাদের মতে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও জবাবদিহির আওতায় এনে প্ল্যাটফর্মগুলো নিরাপদ করা বেশি কার্যকর সমাধান হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়ায় চালু হওয়া শিশু-কিশোরদের সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ নীতির চেয়েও কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ফলে দেশটির ডিজিটাল নীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকার আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারে বলে জানা গেছে। এতে অনুমোদন মিললে যুক্তরাজ্যের লাখো পরিবার এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি হবে।