অভিবাসন কমেছে, তবু ব্রিটিশ ভোটারদের ধারণায় বাড়ছেই

অভিবাসন কমেছে, তবু ব্রিটিশ ভোটারদের ধারণায় বাড়ছেই

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১০ জানুয়ারি : 

যুক্তরাজ্যে নেট অভিবাসন দুই-তৃতীয়াংশের বেশি কমে গেলেও দেশটির অধিকাংশ ভোটার এখনো মনে করছেন অভিবাসন বাড়ছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি সাম্প্রতিক জরিপে। গার্ডিয়ানের সঙ্গে একান্তভাবে শেয়ার করা ‘মোর ইন কমন’-এর এই জরিপ বলছে, বাস্তবতা ও জনমতের মধ্যে গভীর ফারাক তৈরি হয়েছে, যা লেবার সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাজ্যে নেট অভিবাসন নেমে এসেছে প্রায় ২ লাখে—যা কোভিড-পরবর্তী সময়ের সর্বনিম্ন। অথচ জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ শতাংশ ভোটার মনে করেন, অভিবাসন বেড়েছে। রিফর্ম পার্টির সমর্থকদের মধ্যে এই ধারণা আরও প্রবল—তাদের পাঁচজনের চারজনই মনে করছেন অভিবাসন বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুধু তাই নয়, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সরকারের সক্ষমতার ওপর আস্থাও মারাত্মকভাবে কমেছে। জরিপে দেখা গেছে, ৭৪ শতাংশ ভোটার এই ইস্যুতে সরকারের ওপর খুব কম বা কোনো আস্থাই রাখেন না। মাত্র ১৮ শতাংশ ভোটার সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় আরও কম।

এই চিত্র লেবার সরকারের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দলটি অভিবাসন প্রশ্নে আগের চেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের ঘোষিত নতুন পরিকল্পনায় শরণার্থীদের নাগরিকত্ব পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, আশ্রয়প্রার্থীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ, পারিবারিক পুনর্মিলন সীমিত করা এবং পরিস্থিতি উন্নত হলে শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর মতো কঠোর প্রস্তাব রয়েছে।

তবে বাস্তব পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের (ONS) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যেখানে নেট অভিবাসন ছিল প্রায় ৯ লাখ ৪৪ হাজার, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে এসেছে প্রায় ২ লাখে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে দক্ষ কর্মী ও স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট ভিসা আবেদন যথাক্রমে ৩৬ ও ৫১ শতাংশ কমেছে।

তা সত্ত্বেও ভোটারদের বড় অংশ এই হ্রাসের কৃতিত্ব সরকারকে দিতে রাজি নন। পাঁচজনের কম একজন মনে করেন, এই পতনের জন্য বর্তমান সরকার দায়ী; অনেকে বরং আগের কনজারভেটিভ সরকারের সিদ্ধান্তকে কারণ হিসেবে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ছোট নৌকায় করে অভিবাসীদের আগমন জনমনে বড় প্রভাব ফেলছে। যদিও এই পথে আসা মানুষ মোট অভিবাসনের পাঁচ শতাংশেরও কম, তবুও বিষয়টি গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক আলোচনায় সবচেয়ে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। জরিপে ৭৯ শতাংশ ভোটার বলেছেন, তারা চান সরকারের মূল মনোযোগ থাকুক এই নৌকা ঠেকানোর দিকে।

প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে কঠোর নীতির ফলে কাজের ভিসা কমছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক ভাষ্য ক্রমেই অভিবাসনবিরোধী হয়ে উঠছে। লেবার এমপি কিম জনসনের ভাষায়, “রিফর্মের ভাষা অনুকরণ করার খেসারত দিচ্ছে দেশ—বর্ণবাদ বাড়ছে, আর স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা খাত ঝুঁকিতে পড়ছে।”

সব মিলিয়ে, অভিবাসন নিয়ে বাস্তবতা ও জনধারণার এই ব্যবধান শুধু রাজনৈতিক সংকটই নয়, বরং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অভিবাসী ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।