‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
৩৭ জেলার ১৮৭ উপজেলায় মাদক পাচারের ২৯৬ রুট
ঢাকা, ৭ অক্টোবর: দেশের ৩৭ জেলার ১৮৭টি উপজেলায় মাদক পাচারের ২৯৬টি রুট চিহ্নিত করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এর মধ্যে ভারত সীমান্তবর্তী ৯২টি উপজেলায় ২১২টি এবং মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ছয়টি উপজেলায় ২৯টি রুট রয়েছে। সীমান্তের পাশাপাশি নৌ ও আকাশপথেও মাদক পরিবহনের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।
ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত সীমান্তবর্তী ৩০ জেলার এসব রুট দিয়ে হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, ট্যাপেন্টাডল, কোডিনযুক্ত এস্কাফ সিরাপ ও বিদেশি মদ দেশে প্রবেশ করে। মিয়ানমার সীমান্তের রুটগুলো দিয়ে প্রধানত ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ বা আইস পাচার হয়।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে মাদক পাচারের রুট সবচেয়ে বেশি রাজশাহীতে—৩৭টি উপজেলায় ৮১টি। এরপর চট্টগ্রামে ৪২টি উপজেলায় ৬৪টি, ঢাকায় ২৭টি উপজেলায় ৪২টি এবং খুলনায় ১৮টি উপজেলায় ৩৫টি রুট রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ, কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা এবং কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া ও বান্দরবানের বিভিন্ন সীমান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পাচারপথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর ব্যবহার করেও মাদক পরিবহনের তথ্য রয়েছে। পটুয়াখালী, বরগুনা ও কক্সবাজারে ১৪টি নৌপথ এবং তিনটি বিমানবন্দরভিত্তিক রুটের তথ্য দিয়েছে ডিএনসি।
গত এক বছরে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ৪২ হাজার ২২২টি অভিযান চালিয়ে ১১ হাজার ৯৬৮টি মামলা করেছে ডিএনসি। এসব অভিযানে ১২ হাজার ৩২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ হয়েছে ৮ লাখের বেশি এটিএস-জাতীয় ট্যাবলেট, ২ হাজার ৮৭০ কেজির বেশি গাঁজা, ৬ দশমিক ৭৭২ কেজি হেরোইন, ৬ হাজার ৮৯২ বোতল ফেনসিডিল ও ৮২ হাজারের বেশি ট্যাপেন্টাডল।
সারা দেশে একই সময়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪৩টি অভিযানে ২৮ হাজার ৪০৯টি মামলা ও ৩০ হাজার ১৬১ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।
ডিএনসি বলছে, মাদক ঠেকাতে উৎস এলাকা, ট্রানজিট পয়েন্ট ও সীমান্ত পারাপারের স্থান—তিন পর্যায়ে সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন। প্রতিবেশী দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত অভিযান জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।